Annapurna Yojana: টাকা এখনও অনেকে পাননি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার ঘোষণা মন্ত্রীর

সরকার রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু করেছে Annapurna Yojana যা নিয়ে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ইতিমধ্যে বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেলেও, বহু যোগ্য আবেদনকারী এখনও পর্যন্ত এই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মেখলিগঞ্জের বিধায়িকা মালতী রাভা রায় জানিয়ে দিলেন বড় সিদ্ধান্তের কথা—যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে House-to-House Survey চালানো হবে।

Annapurna Yojana নিয়ে কী বলেছেন মন্ত্রী?

সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে মন্ত্রী মালতী রাভা রায় জানিয়েছেন, যে সমস্ত মহিলার আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। এই বিশাল প্রকল্প স্বল্প সময়ের মধ্যে বহু মানুষকে পরিষেবা দিয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ACDO, BDO এবং GP স্তরে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোন কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানা যায়। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গেও একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়ে মহিলাদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের খবর সামনে আসছে। একই ধরনের ফর্ম পূরণ করেও কেন কেউ টাকা পাচ্ছেন আর কেউ পাচ্ছেন না—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে উপভোক্তাদের মধ্যে।

Annapurna Yojana আসলে কী?

Annapurna Yojana, যা Annapurna Bhandar Scheme নামেও পরিচিত, রাজ্যের অন্যতম বড় মহিলা কল্যাণমূলক প্রকল্প। আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে চালু হওয়া এই স্কিমে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা পাবেন, বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬,০০০ টাকা। এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে Direct Benefit Transfer (DBT) পদ্ধতিতে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীর কোনও সুযোগ না থাকে।

চলতি বছরের ১ জুন থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হয়েছে এবং ৩ জুন থেকে প্রথম কিস্তির টাকা বিলি শুরু হয়। ১ জুলাই দ্বিতীয় কিস্তিতে ১ কোটির বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন অনেকের আবেদন বাতিল হচ্ছে?

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনপত্রে অসম্পূর্ণ নথি, ভুল তথ্য বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া Aadhaar-linked Bank Account Verification-এর সময় কোনও গরমিল থাকলেও তা যাচাইয়ে আটকে যেতে পারে। যাঁদের নাম মৃত, স্থানান্তরিত বা “অনুপস্থিত ভোটার” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হল, শুধুমাত্র নথিগত ত্রুটির কারণে কোনও যোগ্য মহিলা যেন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। যাঁদের নথিতে কোনও ভুল রয়েছে, তাঁরা তা সংশোধন করে পুনরায় আবেদন জমা দিতে পারবেন।

Petrol Diesel Price Today: আজ কলকাতায় জ্বালানির নতুন দাম কত?

কারা এই প্রকল্পে যোগ্য নন?

মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেসব মহিলার স্থায়ী বা নিয়মিত সরকারি চাকরি রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ, এই স্কিমটি মূলত আর্থিকভাবে অসহায় ও প্রয়োজনীয় মহিলাদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের সমস্ত নথি সঠিক এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়েনি, তাঁরা নিয়মিতভাবে প্রতি মাসের অর্থ পেতে থাকবেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, যাঁরা CAA (Citizenship Amendment Act)-এর আওতায় আবেদন জমা দিয়েছেন বা যাঁদের আবেদন SIR Tribunal-এ বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসিক আর্থিক সহায়তা থেকে অব্যাহত থাকবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

আবেদনের সময়সীমা ও পুনরায় আবেদনের সুযোগ

রাজ্য সরকারের তরফে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১ জুন থেকে শুরু হওয়া আবেদন প্রক্রিয়া চলবে টানা ৯০ দিন, অর্থাৎ আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত সময় হাতে রয়েছে। যাঁরা প্রথমবার আবেদন করছেন বা প্রত্যাখ্যাত আবেদন সংশোধন করে ফের জমা দিতে চান, তাঁরা এই সময়সীমার মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে পারবেন।

আবেদন বা সংশোধনের জন্য শুধুমাত্র সরকারি অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওরকম প্রতারণার শিকার না হতে হয়।

সাহায্যের জন্য কোথায় যোগাযোগ করবেন?

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি Helpline Number চালু করেছে, যা সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে। এছাড়া অভিযোগ বা পরামর্শ জানানোর জন্য একটি সরকারি ইমেল আইডিও দেওয়া হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে স্থানীয় ব্লক অফিস বা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেও সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।

প্রকল্পের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

মন্ত্রী মালতী রাভা রায় জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের নামকরণ হয়েছে দেবী অন্নপূর্ণার নামে, যিনি অন্নের দেবী হিসেবে পরিচিত। তাঁর কথায়, এই স্কিম রাজ্যের মহিলাদের নিঃশব্দ পরিশ্রম ও অবদানকে সম্মান জানানোর একটি প্রচেষ্টা। নারীর আর্থিক স্বনির্ভরতার দিকে এই প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে যোগ্য মহিলাদের দ্রুত প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। তবে এত বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার ক্ষেত্রে এই সমীক্ষা সম্পন্ন করতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সময়সীমা জানানো হয়নি।

যা যা করণীয়

যদি আপনার বা পরিবারের কোনও সদস্যের আবেদন বাতিল হয়ে থাকে বা টাকা এখনও অ্যাকাউন্টে না ঢুকে থাকে, তাহলে—

  1. আবেদনের নথি একবার ভালোভাবে যাচাই করুন—নাম, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস ঠিক আছে কি না।
  2. কোনও ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধন করে অফিসিয়াল পোর্টালে ফের আবেদন জমা দিন। (সংশোধন প্রক্রিয়া এখনো পর্যন্ত শুরু হয়নি, সরকারি ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন)।
  3. স্থানীয় BDO বা GP অফিসে গিয়ে আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস জেনে নিন।
  4. প্রয়োজনে সরকারি হেল্পলাইনে ফোন করে সরাসরি সাহায্য চান।
  5. বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার দল এলে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন।

শেষ কথা

Annapurna Yojana রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেও, মন্ত্রীর ঘোষিত বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়। যোগ্য উপভোক্তাদের উচিত নিজেদের আবেদনের অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সংশোধনের পথে এগোনো, যাতে এই সরকারি সুবিধা থেকে কেউ বঞ্চিত না হন।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য সাম্প্রতিক সরকারি ঘোষণা ও সংবাদ সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি। প্রকল্প সংক্রান্ত সর্বশেষ ও নির্ভুল তথ্যের জন্য রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল বা নিকটবর্তী ব্লক/পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment