PM Modi Australia Visit: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন তিন দেশের সফরে বিদেশে রয়েছেন। আর এই সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য Australia। ইন্দোনেশিয়ার পরবর্তী অস্ট্রেলিয়ার এই সফরটি এবার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই চুড়ান্ত হতে চলেছে ভারতের বহু প্রতীক্ষিত — Uranium Supply Deal। সঙ্গে থাকছে Defence Cooperation, Critical Minerals, আর দুই দেশের Comprehensive Strategic Partnership কে মজবুত করার আলোচনাও। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সফরের খুঁটিনাটি।
PM Modi Australia Visit: মেলবোর্নে তিন দিন
মোদী ৮ থেকে ১০ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত মেলবোর্নে থাকছেন, যেখানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজির সঙ্গে Australia-India Annual Leaders’ Summit-এ অংশ নেবেন । এটি হবে দুই দেশের মধ্যে টানা তৃতীয় বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মোদীই প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি তিনবার অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন।
সফরের আরেকটি বড় আকর্ষণ “Melbourne Meets Modi” অনুষ্ঠান। Marvel Stadium-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত অংশ নেবেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস, যা দেশটির দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রবাসী সম্প্রদায়গুলোর অন্যতম।
সবচেয়ে বড় খবর: Uranium Supply Deal
এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদি Uranium Supply Deal। ২০১৪ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এবার দুই দেশ সেই চুক্তিকে কার্যকর করার ব্যাপারে আশাবাদী।
এই চুক্তি ভারতের জন্য কেন এত জরুরি? কারণ ভারতের নিজস্ব uranium ore-এর মান তুলনামূলক কম — মাত্র 0.02% থেকে 0.45% কনসেনট্রেশন, যেখানে বিশ্বের গড় মান 1-2%। এদিকে ভারত সরকার দেশজুড়ে Nuclear Power Generation বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের AI data centre hub হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যার জন্য বিপুল পরিমাণ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ দরকার। অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পেলে ভারতের এই লক্ষ্য পূরণ অনেক সহজ হবে, পাশাপাশি Canada ও Kazakhstan-এর সঙ্গে থাকা বর্তমান চুক্তির সাথে সাপ্লাই আরও diversify করা যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্যও এই চুক্তি লাভজনক — বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে দীর্ঘমেয়াদী export market তৈরি হবে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
Defence Cooperation এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে পারে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের অভিন্ন উদ্বেগ এই আলোচনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই Quad জোটের সদস্য। তাই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি ছাড়ার আগে মোদী জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তির আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
EPFO New Portal 2026: এক ক্লিকেই PF ক্লেম, পাসবুক ও পেনশনের সব তথ্য, জানুন নতুন পোর্টালের বড় সুবিধা
Critical Minerals ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক
Uranium ছাড়াও আলোচনার টেবিলে থাকছে Critical Minerals — যেমন Lithium, Cobalt ও rare earth elements — যা ভারতের electric vehicle (EV) শিল্পের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া cybersecurity, emerging technologies, clean energy এবং supply-chain resilience নিয়েও চুক্তি বা অগ্রগতি হতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই বেশ মজবুত। India-Australia Economic Cooperation and Trade Agreement (ECTA)-এর আওতায় অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৯৮.৩% পণ্য ভারতে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশ করে, আর ভারতীয় পণ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পায় ১০০% duty-free access। ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের bilateral trade পৌঁছেছে প্রায় $54.4 billion-এ, আর ভারত এখন অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম trading partner। সফরের সময় একটি CEOs Forum-ও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা manufacturing, technology, renewable energy খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজবেন।
কিছু বিতর্কও রয়েছে
সফরটি সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত নয়। Amnesty International Australia-সহ কিছু মানবাধিকার সংগঠন দাবি করেছে, আলোচনার সময় Human rights ইস্যুকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এছাড়া কিছু সংগঠন Marvel Stadium-এর অনুষ্ঠানের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করেছে। তবে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের এই বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে, PM Modi-র এই Australia visit শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয় — এটি ভারতের energy security, defence modernisation আর Indo-Pacific কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। যদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সত্যিই মেলবোর্নে সই হয়, তাহলে ২০১৪ সালের একটি নিষ্ক্রিয় কাগুজে চুক্তি অবশেষে বাস্তব রূপ নেবে — আর তা দুই দেশের সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
(দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সফর চলাকালীন প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। চূড়ান্ত চুক্তি ও ঘোষণার বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশের পর নিশ্চিত হবে।)