West Asia Crisis: মধ্যপ্রাচ্যে (West Asia) আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ইরানের (Iran) একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরপর বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে জুন মাসে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির (ceasefire) ঘোষণা হয়েছিল তা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
West Asia Crisis: আসলে কী ঘটেছে
৭ জুলাই, ২০২৬ (মঙ্গলবার): US Central Command (CENTCOM) তাদের বিবৃতিতে জানায় যে তারা ইরানের উপকূলীয় এলাকায় ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা এই হামলা স্থায়ী ছিল। এই হামলার কারণ ছিল, তার আগের দিন Strait of Hormuz প্রণালীতে ইরান তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ।
৮ জুলাই, ২০২৬ (বুধবার): পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। মার্কিন বাহিনী দ্বিতীয় দিনেও হামলা চালায়, এবার প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে। এবার হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের বুশেহর (Bushehr), বন্দর আব্বাস (Bandar Abbas), কোনারাক, চাবাহার, ইরানশাহর এবং উত্তর-পূর্বের আক-কালা এলাকা। ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় একজন দমকলকর্মী নিহত হন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত NATO Summit-এর মঞ্চ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ইরানের সঙ্গে Ceasefire এখন “শেষ”। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান আবার আক্রমণ চালালে পরিণতি “আরও ভয়াবহ” হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এখন “সময়ের অপচয়” ছাড়া কিছু নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের ওপর Naval Blockade বা নৌ-অবরোধ পুনরায় চালু করছে।
ইরানের পাল্টা জবাব
ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। এই হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে Air Raid Siren বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের Air Defense System মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
IRGC হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ভাবে আক্রমণ চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের এই পাল্টা আক্রমণ অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন যে হরমুজ প্রণালী কেবল “ইরানি শর্তেই” খুলবে, মার্কিন হুমকিতে নয়।
PM Modi Australia Visit: প্রতিরক্ষা ও ইউরেনিয়াম চুক্তিতে বড় অগ্রগতি হতে পারে
জাতিসংঘে ইরানের অভিযোগ
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং Security Council-এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার ওপর বড় আকারে সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুশেহর শহরে ইরানের Nuclear Power Plant বা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত হলেও, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে হামলায় এই প্ল্যান্টের কোনো ক্ষতি হয়নি।
কেন এই সংঘাত এত গুরুত্বপূর্ণ
এই যুদ্ধ মূলত শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলায় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর প্রায় চল্লিশ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলে। জুন মাসে একটি Memorandum of Understanding (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের Naval Blockade তুলে নেওয়ার শর্তে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও ৬০ দিনের জন্য স্থগিত করেছিল।
কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের Treasury Department সেই তেল-বিষয়ক ছাড় বাতিল করে দেয়, যা উত্তেজনা বাড়ার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। Strait of Hormuz দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল পরিবহন হয়, তাই এই এলাকায় অস্থিরতার কারণে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে চলেছে। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো Gulf দেশগুলো ইতিমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান, সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন এবং Dialogue ও Diplomacy-র মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
এখন কী হতে পারে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাতকে সরাসরি “যুদ্ধ” না বলে বরং ইরানের “De-Nuclearization” প্রক্রিয়া বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি উভয় পক্ষ এই পাল্টা হামলা থেকে বিরত না হয় তাহলে জুন মাসের Ceasefire পুরোপুরি ভেঙে পড়ার এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আপাতত সারা বিশ্বের নজর এখন এই অঞ্চলের দিকে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এবং Gulf region-এ, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
(তথ্যসূত্র: ৭-৯ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী)